কলকাতায় সিএএ–বিরোধী বিক্ষোভ।প্রথম আলো ফাইল ছবি
ভারতে ষষ্ঠবারের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়নের কাজ পিছিয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। এই আইন বাস্তবায়নের জন্য ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও সময় চেয়েছে। আইনটির আনুষ্ঠানিক নাম সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, যা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের সংসদে পাস হয়। আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব পেলেও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ তা পাবেন না বলে ওই আইনে জানানো হয়। আইনটি নিয়ে ভারতে ব্যাপক বিতর্ক, আন্দোলন ও সংঘর্ষ হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে গত সপ্তাহে উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁয় বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া সম্প্রদায় ও হিন্দু শরণার্থীদের এক অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ অন্য কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু ওই অঞ্চলের মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান যে কেন্দ্র সরকার অতি শিগগির সিএএ বাস্তবায়িত করে অন্য দেশ থেকে আসা মানুষদের নাগরিকত্ব দেবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগেই দিল্লি গিয়েছিলাম আপনাদের কথা বলতে। জানতে চেয়েছিলাম, কবে চালু হবে সিএএ। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, অচিরেই আপনাদের স্বপ্ন পূর্ণ হবে।’
তাঁর এই মন্তব্যের পর ধরে নেওয়া হয়েছিল, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে গ্রাম স্তরে যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে চলেছে, সেই নির্বাচনের আগেই নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে সময় চাওয়ার পর সম্ভবত আবার ছয় মাসের জন্য বাস্তবায়নের কাজ পিছিয়ে গেল। অর্থাৎ পঞ্চায়েত ভোটের আগে সিএএ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রইল না বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এখনো নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিজেপিরই একাংশ। উত্তর চব্বিশ পরগনায় বিজেপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার বলেছে যে কোভিড অতিমারি শেষ হয়ে গেলে সিএএ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে। কোভিড এখন আর কোনো আতঙ্ক নয়, কোভিড এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সরকারই জানাচ্ছে। অথচ আবারও সিএএ বাস্তবায়নের কাজ পিছিয়ে দেওয়া হলো।
ওই নেতার ধারণা এই আইন বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে উত্তর চব্বিশ পরগনাসহ দক্ষিণ বাংলার বড় অংশে বিজেপি জনপ্রিয়তা হারাবে।
ওই নেতা বলেন, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন রয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগণায় যে সব মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাঁদের আমরা কী উত্তর দেব, জানি না। এই অঞ্চলে গত বেশ কয়েকবার বিজেপি ভালো ফল করেছে, কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে হারবে নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে।

0 Comments: